সব চেয়ে সহজ ভাষায় জেনে নেই SEO ও SEO ফ্রেন্ডলী এর বিস্তারিত তথ্য

ডিজিটাল মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম এ আপনি আপনার সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে কোন পণ্য বা ওয়েবসাইডকে সহজেই প্রচার ও প্রসার করতে পারেন। আর যদি এই উপস্থাপনাকে SEO (Search Engine Optimization) করে পণ্য বা ওয়েবসাইড এর বানিজ্যিক প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি করা যায় তাহলেই আপনার লেখার সার্থকতা বজায় থাকবে। তো সময় নষ্ট না করে প্রথমে এক নজরে দেখে নেই এখান থেকে আপনি কি কি বিষয় গুলো জানতে পারবেন ?

  • SEO কি ? এর পূর্ণ রূপ কি ?
  • SEO  কনটেণ্ট কেন সময় উপযোগী?
  • কিভাবে SEO  কনটেণ্ট লিখবেন?
  • কী-ওয়াড রিসার্চ (Keyword Research) ,
  • SEO  টাইটেল,
  • SEO ফ্রেন্ডলী URL ,
  • মেটা ড্রেসক্রিপশন কিভাবে লিখবেন?
  • SEO ফ্রেন্ডলী কনটেন্ট ,
  • ওয়েব স্পীড ও মোবাইল পেইজের স্পীড ,
  • গুগল সার্চ কনসোল,
  • ওয়েব পেইজে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক লিংক এর সুবিধা ও প্রয়োগ,
  • অপটিমাইজ ছবি ব্যবহার সম্পর্কে প্রধান ও মূল তথ্য সমুহ ।

SEO কি ? এর পূর্ণ রূপ কি ?

যদিও যে কোন সার্চ ইঞ্জিনে শুধু মাত্র ‘SEO’ লিখলেই এর পূর্ণ রূপ চোখে পড়ার মত। তবুও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এটা দিয়েই শুরু করা। SEO এর পূর্ণ রূপ Search Engine Optimization . অর্থাৎ কোন বিষয় বস্তুকে Search Engine এ উপস্থাপন করা। SEO সম্পর্কে বিস্তারিত এর আগে অনেক স্থানেই হয় তো জেনে থাকবেন। তাই আমাদের মূল বিষয় এর দিকে এগিয়ে চলি।

SEO  কনটেণ্ট কেন সময় উপযোগীঃ

বর্তমান যুগ হল একটি অনলাইন যুগ। তাই এসময়ে আপনি কোন কিছু জানতে বা খুঁজতে অব্যশই গুগল সার্চ করবেন। আর আপনি পেয়ে যাবেন অনেকগুলো সাজেশন মূলক ওয়েব পেইজ । প্রথম দিকে অবস্থান করা ওয়েব কনটেণ্ট গুলোতেই আপনি আপনার উত্তর পেতে চাইবেন।
প্রথম দিকে অবস্থান করা ওয়েব কনটেণ্টগুলো Gooel Ranking এ এগিয়ে আসে শুধু SEO হওয়ার জন্যই। এই ওয়েব কনটেণ্টগুলোতে আপনি পাবেন প্রয়োজনীয় তথ্য এর পাশাপাশি ভাল কিছু ইউজার এক্সপেরিয়েন্স।

সাধারণত কোন ওয়েবসাইড বা পণ্য বা কোম্পানিকে প্রচার করার জন্য SEO কনটেণ্ট লিখা হয় যা বানিজ্যিক প্রসারের অন্যতম একটি স্মার্ট মাধম। যেহেতু একটি ক্লিকে, আপনি আপনার কাংখিত তথ্যের পাশাপাশি ভালকিছু বানিজ্যিক সোর্স পেয়ে যাচ্ছেন, তাই SEO কনটেণ্ট অব্যশই সময় উপযোগী।

আপনি যা ইচ্ছে লিখতে পারেন। কিন্তু আপনার লিখাটি যেন নির্দিষ্ট Keyword লিখলে সবার প্রথমে চলে আসে সেটা নিশ্চয়ই চাইবেন? SEO কনটেণ্ট এবং সাধারণ কনটেণ্টের মধ্যে রয়েছে কিছু ব্যবধান ।

কারন সকল কনটেন্ট গুগল রাঙ্কিং এ এগিয়ে থাকতে পারে নাহ। নির্দিষ্ট SEO কনটেণ্টগুলো হল সত্যিকারের অপটিমাইজড কনন্টেণ্ট। যা কনটেণ্টের নির্দিষ্ট বিষয় বুঝতে সার্চ ইঞ্জিন সিস্টেমকে সাহায্য করে। নির্দিষ্ট কিছু SEO সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে SEO কনটেণ্ট, গুগল রাঙ্কিং এ প্রথম স্তরে অবস্থান করে।

 

চলুন জেনে নেই কিভাবে SEO  কনটেণ্ট লিখবেনঃ

কী-ওয়াড রিসার্চঃ ( Keyword Research ): 

বেশ কিছুবছর ধরে কী-ওয়ার্ড (keyword) রিসার্চ করে কনটেণ্ট লিখার ধরন জনপ্রিয়তা প্রচুর। আর একজন কনটেণ্ট রাইটারের জন্য এই কাজটি করা কিছুতেই সহজ নয়।
‘কী- ওয়ার্ড’( KEYWORD ) হল একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের একক/ সাধারণ কিছু শব্দ যা সবাই ওই নির্দিষ্ট বিষয়টি খোঁজার সময় সবাই ব্যবহার করে থাকে। কী- ওয়ার্ড বেইসড লিখাগুলো সার্চ ফলাফল প্রথম সারিতে দেখায় বলেই কী-ওয়াড রিসার্চ করা অত্তান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করার কিছু উপায়ঃ

  • কী- ওয়ার্ড ( keyword ) সার্চ করার বেশ কিছু টুলস আছে যা সুপার কুল এবং ফাস্ট। যেমনঃ Google Keyword Planner , SEMrush ইত্যাদি।
  • প্রয়োজনে Quora তে প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে সার্চ করে দেখতে পারেন এবং সেখানে আপনি কিছু প্রয়োজনীয় কী-ওয়ার্ড পেয়ে যাবেন।
  • জনপ্রিয় তথ্য বহুল প্লাটফ্রম উইকিপিডিয়াতে সার্চ করেও পেতে পারেন।
  • বর্তমানে গুগল সার্চ হল বিশাল প্ল্যাটফর্ম ‘নির্দিষ্ট কোন কিছু খোঁজার’। এখানে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কী- ওয়ার্ড সার্চ করলে আপনি প্রাসঙ্গিক অনেক শব্দ বা Keyword পাবেন, যা আপনারও কী- ওয়ার্ড হতে পারে।
  • অনেক অনলাইন প্রশ্ন-উত্তর মূলক প্ল্যাটফর্ম থেকে আপনি নির্দিষ্ট বিষয়ের কী- ওয়ার্ড পেয়ে যাবেন।
  • আপনার অন্য প্রতিযোগী কোন কোন ‘’কী- ওয়ার্ড” ব্যবহার করছে, সেসব রিসার্চ করার মাধমেও আপনি কী- ওয়ার্ড ( keyword ) ভের করতে পারেন।

SEO  টাইটেল ব্যবহারঃ

  • টাইটেলের সঠিক ব্যাবহার আপনার কন্টেন্টকে SEO ফ্রেন্ডলী করে তুলে। টাইটেলকে কনটেণ্ট এর অন্যতম একটি মেইন পার্ট বলা চলে কারন, কনটেন্টটি কি বিষয় নিয়ে লিখা হয়েছে তা বুঝতে সার্চ ইঞ্জিন সিস্টেমকে সাহায্য করে।
  • অনলাইনে টাইটেল জেনারেট করার জন্য কিছু টুলস আছে। যেমনঃ SEOPressor, HubSpot, BlogAbout  আপনার ধারনার জন্য এই টুলস গুলো দেখতে পারেন।
  • মুডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। যেমনঃ Best, Top, How to, 2019, Special and etc.
  • বিষয়বস্তুর টাইটেলের পাশাপাশি প্রত্যেক প্যারাগ্রাফের ভিন্ন ভিন্ন টাইটেল ব্যবহার শেওএর প্রধান বৈশিষ্ট্য। যা Google Ranking ভাল করতে সাহায্য করে।
  • কনটেন্ট এর সাব টাইটেল গুলো তে কী- ওয়ার্ড এর ব্যবহার অধিক উপযোগী। কী- ওয়ার্ডের ব্যবহার ঠিক রাখতে, আপনি ( LSI )- (কী- ওয়ার্ড এর সমার্থক শব্দ) ব্যবহার করতে পারেন।
  • কী- ওয়ার্ড এর ব্যবহার কিছুটা কম রাখতে হবে যাতে ভিজিটর এবং সার্চ ইঞ্জিন প্রসেসর যেন ভুল পথে পরিচালিত না হয়, যে আপনি একই ধরনে শব্দ একাধিক বার ব্যবহার করেছেন।

SEO ফ্রেন্ডলী URL :

  • চেষ্টা করুন URL যেন খুব বেশি দীর্ঘ না হয়।
  • URL তৈরিতে Keyword এর ব্যবহার করুন।
  • URL এর সাথে পেইজ টাইটেলের মিল রাখুন।
  • অনলাইন ভিত্তিক কোন প্রকার অটোমেটেট নিউমেরিক লেবেল ব্যবহার না করাটাই ভালো।

মেটা ড্রেসক্রিপশন কিভাবে লিখবেনঃ (How to write a meta description:

কোন বিষয়বস্তু সার্চ করলে আমরা টাইটেলের ঠিক নিচে দু-তিন লাইন দেখতে পাই সেটাই মেটা ড্রেসক্রিপশন। যেহেতু মেটা ড্রেসক্রিপশন পড়ার মাধ্যমে কনটেণ্ট সম্পর্কে ধারনা পাওয়ার পাশাপাশি পাঠক কনটেণ্ট টি পড়বে কিনা সিদ্ধান্ত নেয়, তাই এই অংশটুকু কিছুটা আকর্ষণীয় করে লিখুন। আকর্ষণীয় করে লেখার পাশাপাশি Keyword ব্যবহার করুন।

SEO ফ্রেন্ডলীকনটেন্টঃ

এ পর্যন্ত আলোচিত সকল বিষয়গুলো কনটেণ্ট এর অভিন্ন পার্ট হলেও ৭০-৮০% মনোযোগ কনটেণ্ট লেখার সময় দিতে হবে। তো চলুন যেনে নেই যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবেঃ

  • কনটেণ্ট লেখার প্রয়োজনীয় ব্লগ বা, টিউন থেকে অনেকটা ধারনা নিতে পারেন । তবে আপনার লেখা কনটেন্ট বা আরটিকেল যেন ওই লেখাগুলোর প্রতিছবি না হয়। (বিস্তারিত)
  • সাধারণত নূনতম ৩০০ শব্দের কম কনটেণ্ট, SEO ফ্রেন্ডলী কনটেণ্ট হয় না।
  • চেষ্টা করুন প্রথম ১০০ শব্দের মধ্যেই আপনার বাছাইকৃত কী- ওয়ার্ড রাখতে।
  • লিখিত তথ্য গুলোকে টাইটেলসহ বিভিন্ন প্যারাগ্রাফ আকারে লিখুন।
  • আপনার কনটেণ্ট পেইজের শেয়ারিং বাটন সচল রাখুন। যেন তা বিভিন্ন সোশ্যাল সাইডে ( Facebook , Twitter , Whats app etc-)  শেয়ার করা যায়।
  • অপ্রয়জনীয় ও অতিরিক্ত Keyword ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • আপনার কনটেণ্টটি যত বড় করে গুছিয়ে লিখতে পারবেন , ভালো Ranking এর সম্ভাবনা ততবেশি।

আপনার ওয়েবসাইড/ ব্লগ মোবাইল বেইসড কি না, তা খেয়াল রাখুন। কারনঃ

Google SEO এর তথ্য মতে, প্রতিটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারি নিয়মিত বিভিন্ন ওয়েবসাইড ভিজিট করে থাকে। বর্তমানে মোবাইলে এর মাধ্যমে সবকিছু খুজে পাওয়াটা সহজ হবার কারনে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারির সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুতরাং আপনার ব্লগ, টিউন বা ওয়েবসাইটটি যেন মোবাইল-ফোন ও পোর্টেবল ডিভাইসে পুরো কাভারেজ করতে পারে এবং সবাই যেন আপনার লেখা ভালভাবে পড়তে পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

ওয়েব স্পীড ও মোবাইল পেইজের স্পীডঃ

ওয়েব ও মোবাইল পেইজ ‘’লোডিং’’ প্রবলেমটি সকল ভিজিটরদের জন্যই বিরক্তিকর একটা ব্যাপার। আপনার ওয়েবসাইট এ ভিজিটর মোবাইল পেইজ লোডিং বেশি সময় নিলে, ভিজিটরা তা না পড়ে অন্য কোন ওয়েবে চলে যেতে পারে। তাই খেয়াল রাখুন ওয়েব স্পীড ও মোবাইল পেইজের স্পীড যেন ভালো থাকে। এর জন্য আপনি HTML ও CSS এর সুবিধা গ্রহন করতে পারেন। চেষ্টা করুন ভালো মানের Hosting ব্যবহার করতে।

অনলাইন টিউটোরিয়াল অথবা এই বিষয়ে Web Developer দের সাহায্যে আপনি HTML ও CSS এর কাজ করাতে পারেন।

গুগল সার্চ কনসোলঃ

SEO ফ্রেন্ডলী কনটেণ্ট / আর্টিকেল এর জন্য এটি অনেক জরুরী কারন এর মাধ্যমে আপনি আপনার WEB রিভিউ করতে পারবেন। আর এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগে গুগল সার্চ কনসোলের উপকারিতা সব চেয়ে বেশি। তো চলুন যেনে নেই গুগল সার্চ কনসোল এর কিছু সুবিধা-

  • কোন URL এবং Keyword আপনাকে কত বেশি ট্র্যাফিক দিচ্ছে তা জানতে পারবেন,
  • আপনি Error নোটিফিকেশান পাবেন, যেমনঃ broken page, Missing Link. এর মাধ্যমে আপনি এই  খেয়াল রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় অংশ ঠিক করে নিতে পারবেন।
  • আপনার ব্লগ / ওয়েব সাইট মোবাইল ও পোর্টেবল ডিভাইস বেস কতটুকু কার্যকর তা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

ওয়েব পেইজে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক লিংক (External Link / Backlink) ব্যবহার করুনঃ

  • একই বিষয়ের উপর বা কাছাকাছি আরও কনটেণ্ট লিখে থাকলে তা লিংক করে দিন এতে করে আপনার লেখার গ্রহণ যোগ্যতা অনেক বৃদ্ধি পাবে।
  • এই লিংক গুলো যেন আপনার ভিজিটরদের আপনার মূল কনটেণ্ট ক্যাটাগোরিতে রি-ডিরেক্ট করাতে পারে সে দিকে করুন।
  • বাহ্যিক লিংক ( Backlink ) গুলো, গুগলকে সাহায্য করবে এটা বুঝতে যে আপনার ব্লগ/ওয়েবটি ভাল এবং বিষয়বস্তুর গ্রহণযোগ্যতা আছে। যা আপনার সাইটের ভিজিটরদের বিশ্বাস পেতে সাহায্য করতে পারবে।

অপটিমাইজ ছবি ব্যবহার করুনঃ

বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য SEO কনটেণ্ট এর কোন বিকল্প নাই। তাই চেষ্টা করুন অপটিমাইজ ছবি এর ব্যবহার করতে। কনটেন্টের সাথে মিল আছে এমন Keyword এবং ছবি আপনার লেখাকে দ্রুত খুঁজে পেতে সাহায্য করে। আপনার ছবির ( image ) URL এ কনটেণ্ট এর ব্যবহার করুন , সেই সাথে URL  ছোট রাখুন।

SEO কনটেণ্ট রাইটার হতে চাইলে আপনাকে কিছু ধাপ অনুসরণ করে চলতে হবে। যে কোন বিষয়ে কনটেণ্ট লেখাটা সবাই লিখতে পারবে, আপনিও পারবেন। কিন্তু এই ধাপ গুলো ছাড়া, আপনার কনটেন্ট গুলকে ভালো Ranking এ নিতে পারবেন না। ভালো কনটেণ্ট, ভালো লিখার কৌশল এবং এই ধাপগুলোর সাথে আপনার কনটেণ্ট অব্যশই SEO হবে, সেই সাথে Google Ranking এর ভালো পজিসন দখল করতে পারবেন ।

 

অনেকটা সময় সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আপনার মূল্যবান মতামত আশা রাখি । HATHOST এর পক্ষ থেকে আমি টিউনার হিমু . আজ এ পর্যন্তই।

 

Was this helpful?

1 / 0

Leave a Reply 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *