একমাত্র ছেলের মৃত্যুর সংবাদে মাত্র কিছু সময়ের ব্যবধানে স্ট্রোক করে মৃত্যুর কোলে চলে গেলেন বাবাও

সারা রাত চিকিৎসার খোঁজে হাঁসপাতাল থেকে হাঁসপাতাল, করোনা ভাইরাসের উপসর্গ জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রিমন সাউদ (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  একমাত্র ছেলের এই খবর শোনার ৩ ঘণ্টা পরই মারা গেছেন তার বাবা হাজী মো. ইয়ার হোসেনও।

এর আগে ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে হার্ট অ্যাটাক করলে মো. ইয়ার হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ৮টার দিকে তিনি মারা যান। হাজী ইয়ার হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জের সরদারপাড়া মসজিদ কমিটির সভাপতি ছিলেন।

প্রাথমিক ভাবে এলাকার লোক জনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বাঁশ দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে নতুন করে লক ডাউন করে ফেলে অনেকেই। পরবর্তী সিদ্ধিরগঞ্জ ৫নং ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর জি এম সাদ্রিল ভাইয়ের এর ফেইসবুক স্ট্যাটাস এ এলাকার লোক জন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে রাস্তা খুলে দেয়। তিনি বলেন-

 

করোনা পরিস্থিতি যখন খারাপ হতে লাগল। আমাদের ৫ নং ওয়ার্ড এ যখন প্রথম রোগী শনাক্ত হল সেদিন ও মরহুম রিমন সাউদ ও মরহুম ইয়ার হোসেন কাকার সাথে কথা হল।এলাকায় জীবানুনাষক ছিটানোর মসজিদ এ মাইকিং সব ব্যাপারে কথা বললাম। হঠাৎ কয়েক দিন অনলাইন এ ছিল নাহ রিমন। আজকে সকালে এ মৃত্যু খবর শুনার পর থেকে আমি স্থম্বিত…😭😭😭
আমার পরিবার ও স্থম্বিত। আপনারা যার যার অবস্থান থেকে এই পরিবার টির পাশে দাড়াবেন এটাই কামনা করি। আল্লাহ উনাদের জান্নাতবাসী করক এই দোয়া করি।

-আমিন।
#ওপারে ভাল থাকুন আপনারা। ইন শা আল্লাহ দেখা হবে জান্নাতে.

 

 

মর্মান্তিক এই ঘটনায় সমস্ত সিদ্ধিরগঞ্জ এ নেমে আসে এক শোঁকের ছায়া।  রিমন এর বন্ধু-বান্ধব এমন অকাল মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। শুধু তারাই নয় এমন ঘটানায় স্থম্ভিত সমস্ত এলাকাবাসী।

ঘটনার ব্যাপারে বন্ধুদের সোশ্যাল মতামত

মৃতের পরিবার এর লোক জনের মধ্যে চাচাতো ভাই মাসুম সাউদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের দেশে কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই।  ভোর রাত ৩টার দিকে অসুস্থ্য বোধ করলে আমার চাচাতো ভাই রিমন সাউদ নিজ বাড়ির ২য় তলা থেকে পায়ে হেঁটে গাড়িতে উঠে। পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতলে নিয়ে যাই। কিন্তু করোনার উপসর্গ জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট থাকার কারণে কোনো হাসপাতালে তাকে ভর্তি নেয়নি।  অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

বিকেল ৪ ঘটিকায় সিদ্ধিরগঞ্জ সাইলো গেইট ঈদগাহ ময়দানে বাবা ও ছেলের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শেষ বারের মত চির বিদায় দিতে আসেন জানা অজানা অনেকেই।

এমন অপমৃত্যু আমরা কেউ আশা করিনি। সবাই সচেতন হউন। আর কোন প্রকার গুজব ছড়াবেন না। নিজে নিরাপদ থাকুন সেই সাথে পরিবারকে নিরাপদ রাখুন। সকলের কাছে বিশেষ অনুরোধ রইল তাদের জন্য দোয়া করার জন্য।

About the Author

Tuner Himu

আমি একজন প্রযুক্তি প্রেমিক। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে সব সময় জড়িয়ে থাকি। ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করি। পাশাপাশি কম্পিউটার সেলস, সার্ভিস ও সিকিউরিটি সিস্টেম নিয়ে কাজ করে আসছি।

View All Post

0 Comments